ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) আরজ আলী মাতুব্বর
বাংলাদেশের ধর্মীয় ও নৈতিক চিন্তাধারায় নব্য-নৈতিকতার ধারণা প্রবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আরজ আলী মাতুব্বর। তাঁর দর্শন ও লেখনী বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলেছে।
**আরজ আলী মাতুব্বর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি ছিলেন একজন স্বশিক্ষিত দার্শনিক, লেখক ও সমাজ সংস্কারক। তাঁর জন্ম ১৯০০ সালে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলায় এবং মৃত্যু ১৯৮৫ সালে।
— তিনি মূলত ইসলাম ধর্মের নব্য-নৈতিকতা বিষয়ে তাঁর মতবাদ প্রচার করেন, যা ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব আরোপ করে।
— তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ **"সত্যের সন্ধান"** তাঁর দর্শনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি ধর্মীয় কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
— তিনি মানবতাবাদ, সাম্য ও ন্যায়বিচারের উপর ভিত্তি করে একটি নৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করেন, যা তাঁকে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।
— তাঁর দর্শন ধর্মীয় ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ (ক) মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ: তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত ও লেখক, কিন্তু তিনি নব্য-নৈতিকতার ধারণার প্রবর্তক ছিলেন না।
✗ (খ) জি. সি. দেব: তিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা ও সমাজ সংস্কারক, কিন্তু তাঁর কর্মকাণ্ড মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল।
✗ (ঘ) আব্দুল মতীন: তিনি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও ভাষা সৈনিক, কিন্তু তিনি নব্য-নৈতিকতার ধারণার সাথে জড়িত ছিলেন না।
**উৎস:**
— আরজ আলী মাতুব্বরের গ্রন্থ **"সত্যের সন্ধান"**।
— বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক ইতিহাস বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা গ্রন্থ।
— বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও নোটবই।