– হরিকেল জনপদ ⎯ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
চর্যাপদের কবিরা ছিলেন –
কমহাঘানী বৌদ্ধ
খবজ্রঘানী বৌদ্ধ
গবাউল
ঘসহজঘানী বৌদ্ধ✓
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) সহজঘানী বৌদ্ধ
**ভূমিকা:**
চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এটি রচনা করেছিলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কয়েকজন কবি। তাদের ধর্মীয় দর্শন ও সাহিত্যিক অবদান সম্পর্কে জানতে হলে চর্যাপদের ধর্মীয় পটভূমি সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।
**চর্যাপদের কবিদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— চর্যাপদের কবিরা ছিলেন সহজঘানী বৌদ্ধ। সহজযান নামে পরিচিত এই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুসারীরা ছিলেন মহাযান বৌদ্ধধর্মের একটি শাখা।
— সহজযান বৌদ্ধধর্মের মূল তত্ত্ব ছিল "সহজ" অর্থাৎ সরল ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা। তারা ধ্যান ও সাধনার মাধ্যমে নির্বাণ লাভের চেষ্টা করতেন।
— চর্যাপদের কবিরা ছিলেন তান্ত্রিক বৌদ্ধ। তারা মন্ত্র, ধ্যান ও যৌগিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনা করতেন।
— চর্যাপদের কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন লুইপাদ, কাহ্নপাদ, ভুসুকুপাদ প্রমুখ। তারা ছিলেন সহজঘানী বৌদ্ধ সাধক।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) মহাঘানী বৌদ্ধ: মহাযান বৌদ্ধধর্মের অনুসারী হলেও চর্যাপদের কবিরা মহাযান নয়, সহজযান বৌদ্ধ ছিলেন।
✗ খ) বজ্রঘানী বৌদ্ধ: বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ছিলেন না চর্যাপদের কবিরা। বজ্রযান পরবর্তীকালে বিকশিত হয়েছিল।
✗ গ) বাউল: বাউল সম্প্রদায় বাংলা সাহিত্যের অনেক পরে বিকশিত হয়েছিল। চর্যাপদের কবিরা বাউল ছিলেন না।
**উৎস:**
- চর্যাপদ (বাংলা একাডেমী সংস্করণ)
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
- সহজযান ও চর্যাপদ (অধ্যাপক প্রবোধচন্দ্র বাগচী)