ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) প্রজাতি
দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি জীববিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি, যা জীবের শ্রেণিবিন্যাসে ব্যবহৃত হয়।
**দ্বিপদ নামকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি প্রথম প্রবর্তন করেন সুইডিশ বিজ্ঞানী **ক্যারোলাস লিনিয়াস** (Carolus Linnaeus) তার বিখ্যাত গ্রন্থ *"Systema Naturae"* (১৭৩৫) এ।
— এই পদ্ধতিতে প্রতিটি জীবের নাম দুটি অংশ নিয়ে গঠিত হয়: **বংশগত নাম (Genus)** এবং **প্রজাতি নাম (Species)**।
— উদাহরণ: মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম হলো *Homo sapiens*। এখানে *Homo* হলো বংশগত নাম এবং *sapiens* হলো প্রজাতি নাম।
— দ্বিপদ নামকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো জীবের নামকরণকে সহজ, সুসংহত এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করা।
— এই পদ্ধতিতে জীবের নাম ল্যাটিন ভাষায় লেখা হয় এবং ইটালিক (বাঁকা) অক্ষরে মুদ্রিত হয়। যদি হাতে লেখা হয়, তাহলে নামের নিচে দাগ দেওয়া হয়।
— দ্বিপদ নামকরণের নিয়ম অনুসারে, প্রথম অংশটি সর্বদা বড় অক্ষর দিয়ে শুরু হয় এবং দ্বিতীয় অংশটি ছোট অক্ষর দিয়ে শুরু হয়।
— প্রজাতি নামটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়, যা সেই প্রজাতিটিকে অন্যান্য প্রজাতি থেকে আলাদা করে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) বর্গ: দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি নির্দেশ করে, বর্গ নয়। বর্গ হলো শ্রেণিবিন্যাসের একটি উচ্চতর স্তর।
✗ গ) রাজ্য: রাজ্য হলো শ্রেণিবিন্যাসের সর্বোচ্চ স্তর, যেমন: প্রাণী রাজ্য (Animalia), উদ্ভিদ রাজ্য (Plantae)। এটি দ্বিপদ নামকরণের অংশ নয়।
✗ ঘ) শ্রেণি: শ্রেণি হলো শ্রেণিবিন্যাসের একটি স্তর, যেমন: স্তন্যপায়ী শ্রেণি (Mammalia)। এটি দ্বিপদ নামকরণের অংশ নয়।
উৎস:
— *Systema Naturae* – Carolus Linnaeus (১৭৩৫)
— জীববিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)
— শ্রেণিবিন্যাস ও জীবের নামকরণ – ড. মোহাম্মদ আব্দুল মতিন