ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) 32
**হরিকেল জনপদ সম্পর্কিত ভূমিকা:**
বাংলার প্রাচীন জনপদগুলোর মধ্যে হরিকেল ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতক থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত এই জনপদটি আধুনিক সিলেট অঞ্চল থেকে শুরু করে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও ভূগোল অধ্যয়নে হরিকেল জনপদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।
**হরিকেল জনপদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— হরিকেল জনপদের অবস্থান ছিল বর্তমান সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকা, ময়মনসিংহের কিছু অংশ, এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে।
— খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ-এর বিবরণে হরিকেলের উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, হরিকেল ছিল একটি সমৃদ্ধ জনপদ যেখানে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য।
— পাল রাজবংশের শাসনামলে (৮ম-১২শ শতক) হরিকেল জনপদ পাল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাল রাজারা হরিকেল অঞ্চলে তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
— হরিকেল জনপদের রাজধানী ছিল শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট)। শ্রীহট্ট ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
— হরিকেল অঞ্চলে উৎপন্ন হতো চা, রেশম, এবং অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য। এছাড়া, এই অঞ্চলের লোকেরা মৃৎশিল্প ও তাঁত শিল্পেও পারদর্শী ছিল।
— হরিকেল জনপদের উল্লেখ প্রাচীন বাংলার সাহিত্য ও প্রশাসনিক দলিলেও পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, চর্যাপদে হরিকেল অঞ্চলের উল্লেখ রয়েছে।
— খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতকের পর থেকে হরিকেল অঞ্চলে মুসলিম শাসনের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে থাকে, এবং ধীরে ধীরে হরিকেল জনপদের স্বতন্ত্র পরিচয় হারিয়ে যায়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) 8: এই মানটি হরিকেল জনপদের সাথে সম্পর্কিত নয়। এটি কোনো ঐতিহাসিক তথ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
✗ গ) 3: এই মানটিও হরিকেল জনপদের সাথে সম্পর্কিত নয়। এটি কোনো ঐতিহাসিক তথ্য বা সূত্র থেকে প্রাপ্ত নয়।
✗ ঘ) √8: এই মানটি একটি গাণিতিক রাশি, যা হরিকেল জনপদের সাথে সম্পর্কিত নয়। এটি কোনো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রযোজ্য নয়।
**উৎস:**
— "প্রাচীন বাংলার ইতিহাস" – অধ্যাপক আব্দুল করিম
— "বাংলাদেশের ইতিহাস" – ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
— "হিউয়েন সাঙ-এর ভারত ভ্রমণ" – অনুবাদ: শ্রী যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি