ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) জলবায়ু পরিবর্তন
**ভূমিকা:**
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য **COP (Conference of the Parties)** নামে পরিচিত সম্মেলনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মেলনগুলো জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC) এর অধীন অনুষ্ঠিত হয়। **COP ২৮** ছিল জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সর্বশেষ বৃহৎ আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
---
**COP ২৮ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **COP ২৮** হলো **জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (UNFCCC)** এর অধীন **২৮তম সম্মেলন**, যা **২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়**।
— এই সম্মেলনে **১৯৮টি দেশের প্রতিনিধি, বিজ্ঞানী, নীতি নির্ধারক, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন**।
— **COP ২৮-এর প্রধান লক্ষ্য ছিল:**
— **জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ জোরদার করা**।
— **গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য নতুন প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা**।
— **জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধি ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা প্রদান করা**।
— **জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক চুক্তি গ্রহণ করা**।
— **COP ২৮-এর উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তসমূহ:**
— **প্রথমবারের মতো বৈশ্বিকভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দূরে সরে আসার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা হয়** (যা পূর্ববর্তী সম্মেলনগুলোতে ছিল না)।
— **"ট্রিপল ট্রানজিশন" (Triple Transition) নামে পরিচিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়:**
১. **জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর।**
২. **জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে কার্বন নিঃসরণ কমানো।**
৩. **জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন ব্যবস্থা জোরদার করা।**
— **"গ্লোবাল স্টকটেক" (Global Stocktake) নামে পরিচিত জলবায়ু কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়**, যা দেখায় যে বিশ্ব এখনও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে।
— **"লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড" (Loss and Damage Fund) নামে পরিচিত তহবিল গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়**, যা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা প্রদান করবে।
— **COP ২৮-এর আলোচনায় বাংলাদেশসহ ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়**, কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে।
— **সম্মেলনের শেষ দিনে "ইউএই কনসেনসাস" নামে পরিচিত চূড়ান্ত চুক্তি