ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) খরা
হারিৎ অর্থ শস্য বা ফসল এবং কেল অর্থ স্থান বা আবাস। প্রাচীনকালে পূর্ব বাংলার পূর্বাঞ্চলে অর্থাৎ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে যে জনপদ গড়ে উঠেছিল তাকে বলা হতো হরিকেল জনপদ। এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও আবহাওয়ার কারণে কৃষির উপর নির্ভরশীলতা ছিল বেশি।
খরা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— খরা হলো এমন একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টিপাতের অভাবে মাটির আর্দ্রতা হ্রাস পায় এবং ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
— এটি কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ কারণ এর সঙ্গে সরাসরি আবহাওয়া ও কৃষির সম্পর্ক রয়েছে।
— খরা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন: মৌসুমি খরা, কালানুক্রমিক খরা, এবং হাইড্রোলজিক্যাল খরা।
— বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশে খরা মারাত্মক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে শস্য উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়।
— খরার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যায়, নদী-খাল শুকিয়ে যায় এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভূমিকম্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— ভূমিকম্প হলো ভূত্বকের হঠাৎ কম্পন যা ভূগর্ভস্থ শিলার চ্যুতি বা টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে ঘটে।
— এটি ভূতাত্ত্বিক কারণে ঘটে এবং কৃষির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
— ভূমিকম্পের ফলে ভূমিধস, সুনামি ইত্যাদি ঘটতে পারে, কিন্তু এটি নিজেই কৃষি-আবহাওয়াজনিত বিপর্যয় নয়।
ভূমিধস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— ভূমিধস হলো ভূমির উপরিভাগের স্তর বা পাহাড়ের ঢাল থেকে মাটি, পাথর ইত্যাদির হঠাৎ নেমে আসা।
— এটি সাধারণত ভূতাত্ত্বিক ও ভূমির গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং আবহাওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
— ভূমিধস বৃষ্টিপাত বা ভূমিকম্পের কারণে ঘটতে পারে, কিন্তু এটি নিজেই কৃষি-আবহাওয়াজনিত বিপর্যয় নয়।
সুনামি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— সুনামি হলো সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, ভূমিধস বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্ট বিশালাকার ঢেউ।
— এটি সম্পূর্ণভাবে ভূতাত্ত্বিক কারণে ঘটে এবং কৃষির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
— সুনামি উপকূলীয় অঞ্চলে মারাত্মক ক্ষতি করে, কিন্তু এটি কৃষি-আবহাওয়াজনিত বিপর্যয় নয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ভূমিকম্প: এটি ভূতাত্ত্বিক কারণে ঘটে এবং কৃষির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
✗ খ) ভূমিধস: এটি ভূতাত্ত্বিক কারণে ঘটে এবং আবহাওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
✗ গ) সুনামি: এটি সম্পূর্ণভাবে ভূতাত্ত্বিক কারণে ঘটে এবং কৃষির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎস:
— ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিষয়ক বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক।
— বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) কর্তৃক প্রকাশিত