ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
<সুশাসন সম্পর্কে সাধারণ ধারণা>
সুশাসন হলো এমন একটি শাসন ব্যবস্থা যেখানে সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামতের গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটি একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা।
**সুশাসনের মূলনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **স্বচ্ছতা (Transparency):** সরকারের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া জনগণের কাছে উন্মুক্ত থাকা। এর অর্থ হলো তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায় এবং জনগণ সহজেই সরকারের কাজ সম্পর্কে জানতে পারে।
— **জবাবদিহিতা (Accountability):** সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজের জন্য জনগণের কাছে দায়ী থাকে। তারা তাদের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য থাকে।
— **জনগণের অংশগ্রহণ (Participation):** সুশাসনে জনগণকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন ও জনমত গঠনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
— **আইনের শাসন (Rule of Law):** আইনের সামনে সবাই সমান এবং আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকে না।
— **কার্যকারিতা ও দক্ষতা (Effectiveness and Efficiency):** সরকারি সেবা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়।
— **সমতা ও অন্তর্ভুক্তি (Equity and Inclusiveness):** সব নাগরিকের সমান অধিকার ও সুযোগ থাকে, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য।
— **স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন (Local Autonomy):** স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয় যাতে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **খ) কর্তৃত্ববাদী শাসন:** কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থায় সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতা প্রয়োগ করে। এটি সুশাসনের বিপরীত ধারণা, কারণ সুশাসনে জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামত গুরুত্বপূর্ণ।
✗ **গ) কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ:** কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ কম থাকে। এটি সুশাসনের মূলনীতি বিরোধী, কারণ সুশাসনে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ও জনগণের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
✗ **ঘ) স্বজন প্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব:** স্বজন প্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব সুশাসনের সম্পূর্ণ বিপরীত। সুশাসনে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হয়, কোনো ধরনের বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্ব থাকা উচিত নয়।
---
**উৎস:**
1. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) কর্তৃক প্রকাশিত "সুশাসনের জন্য নির্দেশিকা" (Guidelines on Governance)।
2. বিশ্বব্যাংকের "সুশাসন ও উন্নয়ন" সম্পর্কিত প্রতিবেদন।
3. বাংলাদেশ সরকারের "জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্র" (২০১২)।