ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
হরিকেল জনপদ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা:
হরিকেল ছিল প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এটি মূলত আধুনিক সিলেট বিভাগ থেকে শুরু করে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রাচীন গ্রন্থ ও ঐতিহাসিক দলিলে হরিকেলের উল্লেখ পাওয়া যায়। এটি ছিল একটি স্বাধীন জনপদ, যার নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা ও সংস্কৃতি ছিল।
‘নীলকর’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি ও সমাস বিশ্লেষণ:
‘নীলকর’ শব্দটি সংস্কৃত শব্দ ‘নীল’ (নীল রঙ) এবং ‘কর’ (কর্তা বা যিনি করেন) থেকে এসেছে। এটি একটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ, যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। এখানে ‘নীল’ হলো পূর্বপদ এবং ‘কর’ হলো পরপদ। পূর্বপদের অর্থ অনুসারে সমাসটি ‘নীল রং করে যে’ অর্থ প্রকাশ করে।
‘নীলকর’ শব্দটির গঠন বিশ্লেষণ:
— ‘নীল’ (নীল রঙ) + ‘কর’ (কর্তা) = ‘নীলকর’ (যিনি নীল রং করেন)
— এটি একটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস, কারণ পূর্বপদ ‘নীল’ একটি বিশেষণ এবং পরপদ ‘কর’ একটি বিশেষ্য।
— উপপদ তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদটি বিশেষণ এবং পরপদটি বিশেষ্য হয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) দ্বন্দ্ব: দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা ততোধিক সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দ যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠন করে। যেমন: মাতা-পিতা। ‘নীলকর’ শব্দটি দ্বন্দ্ব সমাস নয়, কারণ এখানে দুইটি শব্দ যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ গঠন করেনি।
✗ খ) বহুব্রীহি: বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে। যেমন: বহুব্রীহি (বহু ধান আছে যার)। ‘নীলকর’ শব্দটি বহুব্রীহি সমাস নয়, কারণ এটি পূর্বপদ ও পরপদের অর্থ অনুসারে গঠিত হয়েছে।
✗ গ) নিত্য: নিত্য সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে কোনো সম্বন্ধ থাকে না, এবং সমাসের অর্থ পূর্বপদ বা পরপদের অর্থ দ্বারা প্রকাশিত হয় না। যেমন: রাজপুত্র। ‘নীলকর’ শব্দটি নিত্য সমাস নয়, কারণ এটি পূর্বপদ ও পরপদের অর্থ অনুসারে গঠিত হয়েছে।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান
— সমাস বিষয়ক বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক (বাংলা ব্যাকরণ অংশ)