ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক
বর্ণ হলো ভাষার লিখিত রূপের ক্ষুদ্রতম একক, যা ধ্বনিকে নির্দেশ করে। বাংলা ভাষায় বর্ণকে 'অক্ষর' হিসেবেও অভিহিত করা হয়, যা উচ্চারণযোগ্য ধ্বনির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
**বর্ণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ। অর্থাৎ, ধ্বনি উচ্চারণ করার সময় যে প্রতীক ব্যবহার করা হয়, তাকে বর্ণ বলে। উদাহরণ: 'অ', 'ক', 'খ' ইত্যাদি।
— বর্ণ দুই প্রকার: স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ। স্বরবর্ণ হলো স্বাধীনভাবে উচ্চারিত ধ্বনি (যেমন: অ, আ, ই, উ), আর ব্যঞ্জনবর্ণ হলো স্বরবর্ণের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনি (যেমন: ক, খ, গ)।
— বর্ণের মাধ্যমে শব্দ গঠিত হয়। একাধিক বর্ণ মিলে একটি শব্দ তৈরি হয়, যেমন: 'কথা' শব্দটি 'ক', 'থ', 'আ' বর্ণ নিয়ে গঠিত।
— বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০টি বর্ণ রয়েছে: ১১টি স্বরবর্ণ এবং ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ।
— বর্ণ হলো ধ্বনির প্রতীক, ধ্বনি নয়। ধ্বনি হলো উচ্চারণের সময় মুখ থেকে নির্গত শব্দ, আর বর্ণ হলো সেই ধ্বনিকে লিখিতভাবে প্রকাশ করার মাধ্যম।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ: এটি ভুল কারণ শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ হলো ধ্বনি, বর্ণ নয়। বর্ণ হলো ধ্বনির প্রতীক।
✗ খ) একসঙ্গে উচ্চারিত ধ্বনিগুচ্ছ: এটি ভুল কারণ একসঙ্গে উচ্চারিত ধ্বনিগুচ্ছকে শব্দ বলে, বর্ণ নয়।
✗ ঘ) ধ্বনির শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ: এটি ভুল কারণ ধ্বনির শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ হলো উচ্চারণযোগ্য ধ্বনি নিজেই, বর্ণ নয়। বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত প্রতীক।
উৎস:
— বাংলা একাডেমী প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ (২০১৮ সংস্করণ)
— মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি)
— বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক (বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক)