সঠিক উত্তর: (খ) হাড়িয়াভাঙ্গা
বিষয় সম্পর্কিত ভূমিকা:
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো অসংখ্য নদী-মোহনা ও দ্বীপ। দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ নামে পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবন এলাকায় অবস্থিত। এই দ্বীপটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নদীর মোহনা সম্পর্কিত বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এই দ্বীপের অবস্থান সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবন এলাকায় অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ।
— এটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিরোধপূর্ণ একটি দ্বীপ হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় অনুযায়ী দ্বীপটি বাংলাদেশের অধিকারভুক্ত হয়।
— দ্বীপটি হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় অবস্থিত। হাড়িয়াভাঙ্গা নদী সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।
— দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। এটি মূলত পলি জমে গঠিত একটি দ্বীপ।
— দ্বীপটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা জেলার অন্তর্গত। এটি সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অবস্থিত হওয়ায় জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) বালেশ্বর: বালেশ্বর নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত নয়। এটি মূলত ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের একটি প্রধান নদী। দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ গ) রূপসা: রূপসা নদী খুলনা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটি দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের কাছাকাছি অবস্থিত হলেও দ্বীপটি রূপসা নদীর মোহনায় অবস্থিত নয়।
✗ ঘ) ভৈরব: ভৈরব নদী বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের একটি প্রধান নদী। এটি মূলত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎস:
— বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্বকোষ, দ্বিতীয় খণ্ড (বাংলা একাডেমি)
— সুন্দরবন: জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ (ড. আনোয়ারুল ইসলাম)
— আন্তর্জাতিক আদালতের রায় (২০১৪), বাংলাদেশ বনাম ভারত