ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) দুদু মিয়া
**ভূমিকা:**
বাংলাদেশের ইতিহাসে ফরায়েজি আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক আন্দোলন হিসেবে পরিচিত। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হাজী শরীয়তউল্লাহ এবং তার পরবর্তীতে তার পুত্র দুদু মিয়া। ফরায়েজি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ইসলামের প্রকৃত বিধান অনুসারে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করা। এই প্রেক্ষাপটেই দুদু মিয়া জমি থেকে খাজনা আদায়কে আল্লাহর আইনের পরিপন্থী ঘোষণা করেছিলেন।
---
**দুদু মিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— দুদু মিয়া (১৮১৯–১৮৬২) ছিলেন ফরায়েজি আন্দোলনের দ্বিতীয় প্রধান নেতা। তার প্রকৃত নাম ছিল মুহাম্মদ মহসিন আলী।
— তিনি ছিলেন হাজী শরীয়তউল্লাহর পুত্র। তার পিতার মৃত্যুর পর তিনি ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
— দুদু মিয়া ইসলামের প্রকৃত বিধান অনুসারে সমাজ সংস্কারের জন্য কাজ করেন। তিনি মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন অনৈসলামিক প্রথা ও ব্রিটিশ সরকারের কর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন।
— তিনি মুসলমানদেরকে ইসলামের প্রকৃত বিধান অনুসারে জীবনযাপনের জন্য উৎসাহিত করেন। তার মতে, জমির খাজনা আদায় ব্রিটিশ সরকারের আইন দ্বারা পরিচালিত হতো, যা ইসলামের বিধান অনুসারে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
— দুদু মিয়া তার অনুসারীদেরকে একত্রিত করে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ফরায়েজি সম্প্রদায়কে সংগঠিত করে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
— তার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আরও তীব্র হয়।
— দুদু মিয়া ১৮৬২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর তার ভাই নোয়াব আলী ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) তিতুমীর:** তিতুমীর ছিলেন বাংলার একজন ইসলামি সংস্কারক ও ব্রিটিশ বিরোধী নেতা। তিনি বারাসাত বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি জমির খাজনা আদায়কে আল্লাহর আইনের পরিপন্থী ঘোষণা করেননি।
✗ **খ) ফকির মজনু শাহ:** ফকির মজনু শাহ ছিলেন সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা। তিনি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, কিন্তু তার সাথে ফরায়েজি আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি জমির খাজনা আদায় সম্পর্কে কোনো ঘোষণা দেননি।
✗ **ঘ) হাজী শরীয়তউল্লাহ:** হাজী শরীয়তউল্লাহ ছিলেন ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ইসলামের প্রকৃত বিধান অনুসারে জীবনযাপনের জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলেন, কিন্তু তিনি জমির খাজনা আদায়কে আল্লাহর আইনের পরিপন্থী ঘোষণা করেননি। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র দুদু মিয়া এই ঘোষণা দেন।
---
**উৎস:**
- আবদুল করিম, *ফরায়েজি আন্দোলন*, বাংলা একাডেমি, ১৯৮৫।
- এম. এ. রহিম, *The History of the Peasantry in Bengal*, পৃষ্ঠা ১২৩–