ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) কুচবরণের কন্যে
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইব্রাহীম খাঁর সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে জানতে হলে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। ইব্রাহীম খাঁ ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভাধারী লেখক, যিনি উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নাটক প্রভৃতি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁর লেখনীতে তৎকালীন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে। তাঁর রচনাগুলোতে মানবিক আবেদন, সামাজিক দ্বন্দ্ব এবং ঐতিহ্যগত মূল্যবোধের প্রতিফলন দেখা যায়।
**ইব্রাহীম খাঁ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ইব্রাহীম খাঁ (১৮৯৪–১৯৭৮) ছিলেন একজন বাংলাদেশি সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ। তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অধুনা বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
— তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
— তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও নাটক। তাঁর রচনাগুলোতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনযাত্রা, সংগ্রাম ও সামাজিক পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
— তিনি বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এবং বাংলা সাহিত্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
— তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
— উপন্যাস: *আনোয়ার পাশা* (১৯৩৫), *সোনার শিকল* (১৯৪৮), *ইস্তাম্বুল যাত্রীর পথ* (১৯৫৩)।
— ছোটগল্প: *কুচবরণের কন্যে* (১৯৫০) নয়, এটি আসলে আবুল মনসুর আহমদের লেখা একটি বিখ্যাত ছোটগল্প সংকলন।
— প্রবন্ধ: *বাংলাদেশের কৃষক* (১৯৪৫), *মুসলিম সাহিত্য ও সমাজ* (১৯৫৭)।
— নাটক: *মাটির ঘর* (১৯৪৬), *নবান্ন* (১৯৫৯)।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) আনোয়ার পাশা: ইব্রাহীম খাঁর লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এটি তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত।
✗ খ) ইস্তাম্বুল যাত্রীর পথ: এটি ইব্রাহীম খাঁর লেখা আরেকটি উপন্যাস। এই গ্রন্থে তিনি তুরস্কের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বর্ণনা করেছেন।
✗ ঘ) সোনার শিকল: ইব্রাহীম খাঁর লেখা একটি উপন্যাস। এই গ্রন্থে তিনি গ্রামীণ সমাজের জীবনযাত্রা ও সামাজিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেছেন।
উৎস:
- *বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস* (ড. মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনিসুজ্জামান)
- *ইব্রাহীম খাঁর নির্বাচিত রচনাবলী* (বাংলা একাডেমি)
- *বাংলাদেশের সাহিত্যিকদের জীবনী* (বাংলা একাডেমি প্রকাশিত