ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও লাওস
বিষয় সম্পর্কিত ভূমিকা:
বিশ্বব্যাপী অবৈধ আফিম উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ অঞ্চলটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি দেশ নিয়ে গঠিত। এই অঞ্চলটি আফিম ও হেরোইন উৎপাদনের জন্য কুখ্যাত এবং আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর নজরদারিতে রয়েছে।
‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— **অবস্থান ও ভূগোল**: গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চলটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি দেশ—মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও লাওসের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এই অঞ্চলের প্রধান শহরগুলো হলো মিয়ানমারের শান রাজ্যের মংলা, থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই প্রদেশের মায়েহংসোন, এবং লাওসের উত্তরাঞ্চলের এলাকা।
— **আফিম উৎপাদন**: এই অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আফিম উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত। আফিম থেকে হেরোইন তৈরি করা হয়, যা বিশ্বব্যাপী অবৈধ মাদক বাজারে সরবরাহ করা হয়।
— **ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট**: গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চলটি ১৯৬০-এর দশক থেকে আফিম উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বিশেষ করে, মিয়ানমারের শান রাজ্যে আফিম চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
— **আন্তর্জাতিক প্রভাব**: এই অঞ্চল থেকে উৎপাদিত মাদক বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা (যেমন জাতিসংঘ, ইন্টারপোল) এই অঞ্চলের মাদক উৎপাদন ও পাচার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
— **বর্তমান অবস্থা**: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমার সরকার আফিম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও এখনও এই অঞ্চলটি অবৈধ মাদক উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ (ক) মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও চীন: চীন গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চলের অংশ নয়। চীন মূলত আফিম উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত নয়, বরং এটি আফিমের প্রধান ক্রেতা দেশগুলোর একটি।
✗ (গ) মিয়ানমার, আফগানিস্তান ও কম্বোডিয়া: আফগানিস্তান গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চলের অংশ নয়। আফগানিস্তান মূলত ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ নামে পরিচিত আরেকটি আফিম উৎপাদনকারী অঞ্চলের অংশ।
✗ (ঘ) ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান: এই দেশগুলো ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ নামে পরিচিত আরেকটি আফিম উৎপাদনকারী অঞ্চলের অংশ, গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল নয়।
উৎস:
— জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক কার্যালয় (UNODC) এর প্রতিবেদন: "World Drug Report"
— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (DEA) এর প্রকাশনা: "Drug Threat Assessment"
— বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন: "মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বার্ষিক প্রতিবেদন"